ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কিশোরগঞ্জে নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে হত্যা


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৫৮ পিএম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি 

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় নেশার টাকার জন্য বাবা রমজান আলীকে (৪৫) হত্যা করেছে তার বড় ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫)। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের দড়িজাহাঙ্গীরপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, ভোরের দিকে জুয়েল ধারালো দা দিয়ে তার বাবার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জুয়েল মিয়াকে হেফাজতে নেয় এবং ধারালো দা জব্দ করে। রমজান আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাড়াইল থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত। নেশার জন্য বাবার সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে।

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় সামাজিক দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাড়াইল থানা এলাকাজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জুয়েল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নেশা করে আসছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীরা আগে থেকেই তার আচরণ নিয়ে পুলিশকে জানিয়ে সতর্ক করেছিল। তবে শারীরিক সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘটনা ঘটে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জুয়েল মিয়ার নেশা এবং পূর্ববতী আচরণ হত্যার মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধরা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সাইবার ও ফোরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহের পর আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনায় পরিবারে গভীর শোক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তারা নেশা নিয়ন্ত্রণ এবং যুবকদের শিক্ষায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় সামাজিক সচেতনতা এবং পুলিশি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর