ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

ঋণ দিতে সক্ষম হলেও আদায়ে দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: গভর্নর


  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:৩৫ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সক্ষম হলেও সময়মতো সেই ঋণ আদায়ে দুর্বল—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, সঠিকভাবে গ্রাহক নির্বাচন করে ঋণ দেওয়া গেলে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সক্ষম হলেও সেই ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় অতীতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত রাখতে হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০০ সালের আগেও সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবাহ ছিল সীমিত, যা কোনোভাবেই টেকসই মডেল নয়।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক যদি আমানত সংগ্রহ করেও তা বৃহৎ অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে না পারে, তাহলে সেই অর্জন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে, তবে এখন সময় এসেছে আরও সাহসী ও পরিকল্পিতভাবে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে কনজিউমার লেন্ডিং ও হাউজ লেন্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশেষ করে কনজিউমার লেন্ডিংয়ে বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি সীমিত। এই খাতে বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।

সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি আংশিকভাবে কমার্শিয়াল ব্যাংকিং নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে আরও বিস্তৃতভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

গত বছরের মুনাফা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এই আয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও প্রভিশন ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক লভ্যাংশ প্রদানেও সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, সরকার সোনালী ব্যাংককে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালনার স্বাধীনতা দেবে এবং পরবর্তী সরকারও এই নীতি অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সোনালী ব্যাংককে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান গভর্নর।

খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ইতোমধ্যে ১৮ শতাংশ থেকে কমেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমবে বলে আশা করা যায়। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে তিনি বলেন, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখতে হবে এবং মাঠপর্যায়ের সক্ষম উদ্যোক্তা ও ভালো এসএমই গ্রাহকদের চিহ্নিত করে তাদের ঋণ সহায়তার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রফতানি খাতে সোনালী ব্যাংকের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর