ঈশ্বরদীতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সমর্থিত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার খরচের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় নিজ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রুমন আলী।
রবিবার সন্ধ্যা রাতে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ইস্তা মসজিদ মোড় সংলগ্ন নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুমন আলী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে আসছেন। রোববার দুপুরে ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের প্রধান ফটকের সামনে তার সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে রুমন আলী অভিযোগ করে বলেন, সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হাসান আলী বিশ্বাসের নির্দেশে ঈশ্বরদী পৌর কৃষক দল নেতা আলম (ওরফে ডাকাত আলম), জামরুল ইসলাম, আলম হোসেন, শহিদুল ইসলাম চেনু সরদারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। তারা পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচনী খরচের কথা বলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তিনি বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় দুই লক্ষ টাকার এসডিবি ও এলডিবি পলিথিন জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ভুটভুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং গাড়ির চালককে মারধর করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রুমন আলী আরও জানান, এ ঘটনার পর তিনি আইনি সহায়তার জন্য ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনার মধ্যেই হঠাৎ করে এমন চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের কর্মচারী বাচ্চু হোসেন, সরবরাহকারী শুভ হোসেন, মনির হোসেনসহ আরও কয়েকজন। তারা অভিযোগের বিষয়ে রুমন আলীর বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হাসান আলী বিশ্বাস বলেন, “ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা আমার জানা নেই। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না এবং কাউকে কোনো ধরনের নির্দেশও দেইনি।”
অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মমিনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী মহল দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর