লালমনিরহাট প্রতিনিধি / : 123
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ–আদিতমারী) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দাহবী মানিক বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মিছিলটি রাজনৈতিক উত্তাপের একটি বিশেষ ইঙ্গিত বহন করে।
মিছিলের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল লালমনিরহাট জেলা অধিভুক্ত কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক জি. এম. তানভীর সাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করার প্রতিবাদে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগের পরও এই বহিষ্কারাদেশ অন্যায় এবং অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।
মিছিলে প্রায় শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার হাতে নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে রোকন উদ্দিন বাবুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। বক্তারা বলেন, “দুঃসময়ের দীর্ঘ ১৭ বছরে হামলা, মামলা ও আত্মগোপনে থাকা ত্যাগী নেতাকে বহিষ্কার করা অন্যায়। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
মিছিল থেকে আরও জানানো হয়, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব যিনি নিয়েছেন, সেই নেতা রোকন উদ্দিন বাবুলকে তারা ধানের শীষ প্রতীক প্রদানের মাধ্যমে ভোট দেবেন না—যতক্ষণ না বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তারা মনে করিয়ে দেন, দলের ভেতরে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের প্রতি অন্যায় করা ঠিক নয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জি. এম. তানভীর সাবু এক সময় দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। তার নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দল স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপটি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
মিছিল থেকে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানান এবং দলীয় অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার এই ধরনের কর্মসূচি শুধু স্থানীয় সমর্থন প্রদর্শনের মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের মধ্যে বিভাজন এবং অসন্তোষের চিহ্নও। মিছিলটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও তীব্র করার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উপস্থিত নেতারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য দলের ভেতরে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা এবং বহিষ্কারাদেশ বাতিল করা।
আকাশজমিন / আরআর