ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

শিক্ষার্থীরা সাতরাস্তা থেকে সরলেও যানজট কমেনি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১০ পিএম

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতরাস্তা মোড়ে কারিগরি শিক্ষার্থীদের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ শেষ হলেও যানজট থেকে স্বস্তি মেলেনি নগরবাসীর। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল শুরু হলেও দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকার কারণে সৃষ্টি হওয়া গাড়ির চাপ এখনো কমেনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহন ও চালকেরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে সাতরাস্তা মোড় দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। তবে অবরোধ চলাকালে রাজধানীর এই ব্যস্ত মোড় ও আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহন জমে যাওয়ায় পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বিজয়নগর, ফার্মগেট, মহাখালী, কারওয়ান বাজার, রামপুরা ও মগবাজারমুখী সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট লক্ষ্য করা গেছে।

ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে চলে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।

তিনি বলেন, ‘সাতরাস্তা মোড় রাজধানীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট। এখানে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় বিজয়নগরসহ আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও যানবাহনের একটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে। যান চলাচল শুরু হলেও জট কমতে আরও অন্তত ঘণ্টাখানেক বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।’

দীর্ঘ যানজটে পড়ে অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে বসে থাকতে দেখা যায়। অফিসফেরত যাত্রীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা তীব্র ভোগান্তির কথা জানান। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। জরুরি কাজে বের হওয়া লোকজনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেও স্বস্তি পেতে দেখা যায়নি।

এর আগে দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

আন্দোলনের ফলে সকাল থেকে ওই এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক গাড়ি বিকল্প পথে চলাচলের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সড়কেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা তাদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে আসছেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নেমেছেন। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে বিকেলের দিকে ট্রাফিক পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা অবরোধ তুলে নেন।

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ম্যানুয়ালি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যানজট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ ধরনের সড়ক অবরোধ হলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে অফিস-স্কুল ছুটির সময়ের সঙ্গে আন্দোলনের সময় মিলে গেলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের দিকে যানজট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা। নগরবাসী আশা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে জনভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর