নেত্রকোনা প্রতিনিধি।।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির (এসইউএস) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা বেগম রোকেয়া ওরফে মস্তুরা (৭৮) আজ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি---রাজিউন)। তিনি দুই মেয়ে রেখে যান। তাঁর মরদেহ শীঘ্র নেত্রকোনায় এনে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের নারী জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া ওরফে মস্তুরা ১৯৪৮ সালের ১৭ মে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৮ম শ্রেণির পাঠ চুকাতেই তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বিয়ে হয়। দুই মেয়ের জন্মের পর হন তালাকপ্রাপ্তা। এরপর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে আবার লেখাপড়া করে বিএ ও বিএড পাশ করেন। ১৯৬৯ সালে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যুক্ত হন শিক্ষকতার পেশায়। ১৯৮৫ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি, যা ১৯৮৬ সালে সমাজসেবা বিভাগের এবং ১৯৯০ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন পায়। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে সংস্থাটির নানামুখি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সমাজসেবিকা ও জীবনসংগ্রামী বেগম রোকেয়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, গ্রামীণ ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ড, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সার্ভিস সিভিল ইন্টারন্যাশনাল (এসসিআই), নেত্রকোনা সমাজকল্যাণ সংস্থা, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, নেত্রকোনা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, নেত্রকোনা চক্ষু হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পেশাগত কারণে ভ্রমণ করেছেন অন্তত ২০টি দেশ। অংশগ্রহণ করেছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সভা-সম্মেলনে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের নারী উন্নয়নের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি সর্বজনবিদিত। তাঁর মৃত্যুতে স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রওশন আখতার, বর্তমান নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পালসহ নির্বাহী কমিটি ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আকাশজমিন / আরাআর