ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ঢাকা–১৪ আসনের জনগণের সেবক হতে চান সানজিদা ইসলাম তুলি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:৪০ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা–১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেছেন, “আমি নেতা হতে আসিনি, আপনাদের সেবক হতে এসেছি। আল্লাহ আমাকে যেন ঢাকা–১৪ আসনের জনগণের খেদমত করার তাওফিক দেন— এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।”

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে মিরপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তামান্না পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ, কুশল বিনিময় ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটান তিনি। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

গণসংযোগের সময় তুলি বলেন, “আজকের এই পবিত্র রাতে আপনারা সবাই আমার জন্য প্রাণভরে দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাকে আপনাদের সেবক হিসেবে কবুল করেন। আমাকে ফেলে চলে যাবেন না, আমিও ইনশাল্লাহ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো।” তিনি বলেন, মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁর মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনগণের সেবা করাকেই তিনি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো নেতা বা নেত্রী হিসেবে নয়— কারো সন্তান, কারো বোন, কারো পরিবারের সদস্য হয়ে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা–১৪ আসনকে সন্ত্রাস, মাদক ও দখলবাজমুক্ত একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো।” তিনি উল্লেখ করেন, একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরে তুলি বলেন, “আমি তারেক রহমানের প্রতিনিধি এবং আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করুন। আমি আগামী পাঁচ বছর আপনাদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবো।” তিনি বলেন, জনগণের ভোট ও আস্থাকে তিনি পবিত্র আমানত হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।

তুলি বলেন, “আমি ভাষা সৈনিকের সন্তান, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে একজন সংগ্রামী নারী। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। আমি পজিটিভ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নয়— আমি কী কাজ করতে পারবো সেটাই জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাই।” তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রতিহিংসা বা বিভাজন নয়, বরং উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে একজন জনপ্রতিনিধিকে জনগণের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তুলি বলেন, “আল্লাহ আমাকে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার ও কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমার সব অভিজ্ঞতা আমি ঢাকা–১৪ আসনের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই।” তিনি বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকা–১৪ আসনকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

গণসংযোগ কর্মসূচির সময় তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। এলাকাবাসী রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, জনগণের মতামত নিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

তুলি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, একটি উন্নত সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। নারীরা যাতে নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গণসংযোগ চলাকালে তুলি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের নৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করাই একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রধান দায়িত্ব। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা তুলির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানান। তারা বলেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমস্যার কথা শোনার মাধ্যমে একজন নেতার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে ঢাকা–১৪ আসনের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

তুলি বলেন, তিনি সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে চান এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা–১৪ আসনকে একটি আদর্শ নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর