ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:২৮ পিএম

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন পরিচয় রয়েছে এবং জনগণ তাদেরকে “গুপ্ত পরিচয়ে” চেনে। তিনি অভিযোগ করেন, এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা দেশের মানুষের কাছে নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শহরের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের প্রার্থীদের উপস্থিতির পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী স্বৈরাচার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। একই সঙ্গে কথা বলার অধিকারও রুদ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, ওই সময়কার শাসকগোষ্ঠী যে ভাষায় জনগণের সঙ্গে কথা বলতো, তা ছিল অপমানজনক। তারা গুণীদের অপদস্থ করতো এবং ছোট করতো। তিনি দাবি করেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর মানুষ আশা করেছিল—এ ধরনের আচরণ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে তারেক রহমান বলেন, দুঃখজনকভাবে তিনি খেয়াল করেছেন যে সেই রীতি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল, যাদের সম্পর্কে জনগণের কাছে আলাদা ধারণা রয়েছে, তাদেরকে অনেকেই গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে নতুন জালিম রূপে তারা আবির্ভূত হয়েছে। তার ভাষায়, “এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা দেশের মানুষ কাছে নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে।”


সমাবেশে তারেক রহমান দেশের নারী শ্রমজীবী মানুষদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল ধরে নারী-পুরুষ মাঠে কাজ করে আসছে। শুধু কৃষিকাজ নয়, বিভিন্ন কলকারখানাতেও পুরুষের পাশাপাশি মা-বোনেরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প সারাবিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে এবং এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় মা-বোনদের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি।

এরপর তারেক রহমান নতুন জালেমদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন জালেমদের নেতা দুই দিন আগে দেশের নারীদের নিয়ে একটি কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছে। তারেক রহমান বলেন, যাদের মা-বোনদের নিয়ে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি আশা করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, নারীদের অসম্মান করা মানে দেশের অগ্রযাত্রাকে আঘাত করা।

সমাবেশে নারী নেতাকর্মীদের বসার জন্য আলাদা জায়গা তৈরির বিষয়েও ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সমাবেশ মঞ্চের সামনে বিশাল জায়গাজুড়ে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে নারী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বসার জন্য পৃথক জায়গা নির্ধারণ করা হয়। সকাল থেকেই নির্ধারিত জায়গায় কয়েক শতাধিক নারী অবস্থান নেন।

কিন্তু বেলা ১২টা ২৭ মিনিটে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে নারী নেতাকর্মীদের পেছনে এবং দুইপাশে অবস্থান নেওয়া পুরুষ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ব্যারিকেড ভেঙে হুড়াহুড়ি করে মঞ্চের সামনের দিকে এগোতে থাকেন। তখন কয়েক শতাধিক নারী দিশেহারা হয়ে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকেন।

এই হুড়োহুড়ির মধ্যে কয়েকজন নারী ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে সংশ্লিষ্টরা চেষ্টা করেন এবং সমাবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বরিশালের এই নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক সম্মানবোধ, নারীদের মর্যাদা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি এবং এই অধিকারকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, যারা মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নষ্ট করে, যারা নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে, তারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না।

সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপি ও তাদের মিত্রদের প্রার্থীদের উপস্থিতি এবং পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে দলীয় প্রস্তুতির বার্তাও দেওয়া হয়। বক্তৃতায় তারেক রহমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়, মানুষ চায় তাদের অধিকার ফিরে পেতে। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা অপমান করে কেউ দীর্ঘদিন রাজনীতি করতে পারবে না। তিনি বলেন, জনগণই দেশের মালিক, জনগণের ভোটই সবচেয়ে বড় শক্তি। তারেক রহমানের বক্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর