জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা ১২ দিন বন্ধ থাকার পর আবার ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক।
যমুনা সার কারখানা ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কারখানার সঠিক উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়।
কিন্তু ২২ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ আবারও গ্যাস সংকট দেখা দেয় এবং বুস্টার কম্প্রেসারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে ইউরিয়া উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়। ১১ দিন পর বুস্টার কম্প্রেসার মেরামত শেষে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ফজলুল হক জানান, “গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করা হয়েছে। ১২ দিন পর ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু করা হয়েছে। আমরা আশা করি, নিয়মিত উৎপাদন বজায় থাকবে এবং দেশের সার চাহিদা পূরণ করতে পারব।”
উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় দেশের কৃষি খাতের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুমী চাষাবাদের সময় কৃষকদের সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে এই কারখানা। ইউরিয়া সার বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।
কারখানার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, উৎপাদন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ এবং যান্ত্রিক যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারখানার প্রযুক্তিগত দল এবং প্রকৌশলীরা নিয়মিত তদারকি চালাচ্ছেন যাতে কোনো ধরনের গ্যাস সংকট বা যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটলেও দ্রুত সমাধান করা যায়।
যমুনা সার কারখানার স্থিতিশীল উৎপাদন দেশের কৃষি ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সার উৎপাদনের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকের আয় বাড়ে। এ ছাড়া স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের উৎস।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও স্থিতিশীল করা হবে। যাতে গ্যাসের কোনো ক্ষণিক বিভ্রাট হলেও উৎপাদন স্থগিত না হয়। এছাড়া সার সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা হবে।
উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় কৃষকরা ইতিবাচকভাবে আশাবাদী। তারা মনে করছেন, সরিষাবাড়ী এলাকার যমুনা সার কারখানার কার্যক্রম সঠিকভাবে চলতে থাকলে দেশজুড়ে কৃষি উৎপাদন ও ফসলের মান উন্নত হবে।
আকাশজমিন / আরআর