অনলাইন রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের চাপ এবং সীমিত বাসসংখ্যার কারণে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়া যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। কলেজগেট ও গাজীপুরা এলাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার বাসগুলোও স্বাভাবিক রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
যাত্রীরা জানান, সাধারণত ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার বাসভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হলেও আজ সকালে ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকেও উঠছেন। ট্রাকে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
আলমগীর হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, “ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে সাধারণত ২৫০ টাকা ভাড়া লাগে। আজ সকালে বাসে উঠতে গিয়ে ৬০০ টাকা চাওয়া হলো। বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। এত ভোগান্তি আগে কখনো দেখিনি।”
রাবেয়া খাতুন নামের এক গার্মেন্টকর্মী বলেন, “ভোটের জন্য ছুটি দিয়েছে, কিন্তু বাসই তো পাচ্ছি না। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হচ্ছে ট্রাকে উঠতে হবে। সেখানে ৪০০ টাকা নিতে হচ্ছে। বাস কম, যাত্রী বেশি। তাই সবাই ভাড়া বাড়াচ্ছে।”
সরকার নির্বাচনী ছুটি ঘোষণা করেছে। ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন দিবস ১২ ফেব্রুয়ারি আগেই ঘোষণা করা সাধারণ ছুটি থাকবে। তাছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে।
বাস সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং যানজটের কারণে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে ময়মনসিংহগামী যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে ট্রাক বা অন্যান্য ছোট যানবাহনে উঠছেন, যেখানে সাধারণ ভাড়া থেকে অনেক বেশি আদায় করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি সরকার এবং পরিবহন শ্রমিকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহনের সংখ্যা সীমিত এবং ছুটি উপলক্ষ্যে চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাস মালিক ও শ্রমিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নিচ্ছেন। বিশেষ করে আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলা রুটে একাধিক ট্রিপ চালিয়ে অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যাত্রীরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চললে ভোটের দিন এবং আগের দিন ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। যানজট এবং অপ্রতুল বাসসংখ্যা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান, যেমন কলেজগেট, গাজীপুরা এবং আব্দুল্লাহপুর এলাকায় যানজট তীব্র। রাস্তায় গাড়ি চলাচল ধীরগতিতে হলেও মানুষ বাড়ি ফেরার তাড়না সামলাতে পারছে না। বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ভোটের জন্য সরকার যে বিশেষ ছুটি দিয়েছে, তা তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাসসংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া তাদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাকে উঠলেও স্বাভাবিক ভাড়া বহুগুণ বাড়ায় তাদের আর্থিক চাপ বেড়েছে।
বেসরকারি এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনকালীন ছুটির সুযোগ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, বাস না পাওয়ায় তারা ট্রাক ও অন্য যানবাহনে চড়া ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বাস কম, ভিড় বেশি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নির্বাচনকালীন ছুটির সময় যাত্রীদের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘরমুখো মানুষের ঢল এবং যানজটের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপদ ও সহজ পরিবহন নিশ্চিত না হলে ভোটের আগের দিন এবং নির্বাচনের দিনে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর