৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এ পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থী। উত্তীর্ণরা সবাই পরবর্তী ধাপে বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। কমিশন সূত্র জানায়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য সাময়িকভাবে যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
পিএসসি জানিয়েছে, ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফলাফল কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রার্থীরা অনলাইনের পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে PSC50 লিখে একটি স্পেস দিয়ে নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে প্রার্থীর রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ‘Qualified’ অথবা ‘Not Qualified’ উল্লেখ করে ফল জানানো হবে।
এদিকে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য লিখিত পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচিও জানিয়েছে কমিশন। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হতে পারে। তবে লিখিত পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং পরীক্ষার কেন্দ্র সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুমা আফরীনের সই করা ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িকভাবে যোগ্য ঘোষিত কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে, কমিশন নির্ধারিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সনদ বা প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে কিংবা কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
এ ছাড়া আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন, জাল সনদ উপস্থাপন, বয়স বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত সনদে কোনো ধরনের টেম্পারিং বা পরিবর্তন, কিংবা গুরুতর ত্রুটি বা ঘাটতি পাওয়া গেলে লিখিত পরীক্ষার আগে বা পরে যেকোনো পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের মোট ১৯০টি কেন্দ্রে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবেদন করেছিলেন মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন প্রার্থী।
এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন নেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নন-ক্যাডার পদ রয়েছে ৩৯৫টি।
আকাশজমিন / আরআর