সিলেট অঞ্চলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে হালকা ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পটি গোয়াইনঘাট উপজেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে এবং এর উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ২৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ধরা হয়েছে ৪।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি হালকা ধরনের এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে কিছুক্ষণ বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়েছেন।
ভূমিকম্পের মাত্রা এবং কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান অনুযায়ী এটি একটি ক্ষুদ্র ঝড়ের মতো অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘর কেঁপে উঠেছিল এবং কিছু লোক ভয়ভীতি অনুভব করেছেন। তবে ধ্বংস বা কোনও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।
সিলেট বিভাগ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় পড়ে। অতীতেও এখানে ছোটখাটো ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে, তবে বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব খুব কমই লক্ষ্য করা গেছে। ভূমিকম্প নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা ৪ রিখটার স্কেল হওয়ায় এটি হালকা হিসেবে ধরা হয়েছে। হালকা ভূমিকম্প সাধারণত স্থাপনা বা কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে না, তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সিলেটের ভূতাত্ত্বিক গঠন কিছুটা ভূমিকম্পপ্রবণ। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির জন্য স্থানীয়দের সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের তীব্রতা স্থানীয় জনগণের দ্বারা অল্পক্ষণে অনুভূত হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। সিলেট জেলা প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সাহায্য এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আতঙ্ক ও ভয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হালকা ভূমিকম্পে সাধারণত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে, তবে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বিবেচনা করে নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।
এই ভূমিকম্প সিলেট অঞ্চলের জনগণকে ভূমিকম্প সচেতনতা এবং জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় সময়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
আকাশজমিন / আরআর