ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কক্সবাজারে ২৮ হাজার ৬৩০ পোস্টাল ভোট, গণনা শুরু কাল


  • আপলোড সময় : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:১৪ পিএম

কক্সবাজার প্রতিনিধি 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ২৮ হাজার ৬৩০টি পোস্টাল ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবাসী, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কারাবন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও পোস্টাল ভোট কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চারটি আসন থেকে সব পোস্টাল ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ৯ হাজার ৬৩৫টি, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ৪ হাজার ২১২টি, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে ১০ হাজার ৯১৭টি এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৩ হাজার ৮৬৬টি ভোট পড়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার পর এই পোস্টাল ভোটের গণনা শুরু হবে। নিয়মিত ভোট গণনার মতোই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে। এর জন্য প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি ৩০০ ভোটের জন্য একজন সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোট গণনার সময় প্রার্থীরা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন অথবা এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই শেষে ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট গণনা করা হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ব্যবহৃত আলাদা ব্যালটও গণনার আওতায় আনা হবে।

পোস্টাল ভোট প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ — বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান। এছাড়া মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও ভোট দিয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কারাবন্দিরাও পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

পোস্টাল ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। এভাবে দেশের বাইরে ও ভেতরে অবস্থানরত প্রবাসী এবং নির্ধারিত ব্যক্তিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যালটের সঠিক যাচাই এবং গণনার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তা ও সহায়করা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা, অসঙ্গতি বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।

জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে আরও জানিয়েছে, ভোট গণনার সময় সকল প্রার্থীর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন এবং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সফল ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে।

এবারের পোস্টাল ভোট প্রক্রিয়া দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন উদাহরণ তৈরি করছে। প্রবাসী ও কর্মরত নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রয়োগ করায় ভোটের সংখ্যা ও অংশগ্রহণ বাড়ছে। এভাবে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা শক্তিশালী হচ্ছে।

এই পোস্টাল ভোট গণনা কক্সবাজার জেলা নির্বাচন পরিচালনা সংস্থার তত্ত্বাবধানে হবে। জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোট গণনা সম্পন্ন করবেন।

পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে প্রবাসী ও ভেতরের ভোটাররা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন। এটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। জেলা প্রশাসন বলেছে, পোস্টাল ভোট গণনার মাধ্যমে যে কোনও প্রার্থী বা ভোটার প্রক্রিয়ায় সন্দেহ করতে পারবে না।

এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা কক্সবাজারে নির্বাচনের মান বৃদ্ধি করবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর