সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে নগদ অর্থসহ একজন রাজনৈতিক নেতাকে আটক করার ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে যাওয়ার পর নগদ অর্ধ কোটিরও বেশি টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও অর্থসহ অনেককে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনে অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন প্রতিরোধে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এত বড় অঙ্কের অর্থ কী উদ্দেশ্যে এবং কাদের কাছে দেওয়ার জন্য বহন করা হচ্ছিল।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, টানা কয়েক দিন ধরে যখন দেশের অধিকাংশ ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে, তখন এত বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বিএনপির অনিবার্য বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ধরনের ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলে, তাদের বিরুদ্ধে যদি ভোট কেনা বা অবৈধ অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তবে তা রাজনৈতিক নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং যেকোনো অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা হয়। তার মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
আকাশজমিন / আরআর