নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বলেন, “এত বছরের চেষ্টার পর আমরা আজ একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে পারছি। এটি সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।” সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ হাই স্কুলে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ভোট প্রদান শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভোটগ্রহণের হালনাগাদ তথ্য সকাল ১০টা থেকে প্রকাশ করা হবে। দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে ভোটারদের উপস্থিতি উৎসাহব্যঞ্জক। সকাল থেকে অনেক ভোটার কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইসি সচিবের মতে, এই নির্বাচনে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নভাবে ভোট দিতে পারে, তার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সারা দেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। দেশের ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোটাররা অংশ নেবেন। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। ভোটপ্রার্থীর সংখ্যা ২,০২৮ জন, যার মধ্যে ১,৭৫৫ জন দলের প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ৬৩ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২০ জন।
দেশব্যাপী মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২,৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১,২৩২ জন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জনগণ যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, দেশের এই নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে এই নির্বাচন হবে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রশাসন, কমিশন এবং জনগণ একযোগে অংশ নিলে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা সম্ভব।