শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র না হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের যেকোনো রায় জামায়াতে ইসলামী মেনে নেবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের পশ্চিম ডেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ভোট দেওয়ার আগে তিনি উপজেলার পশ্চিম ডেকরা গ্রামে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত যদি নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র না হয় এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের যেকোনো রায় দল মেনে নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। তবে যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিপরীতে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র হয়, সেটি দেশের জন্য অকল্যাণকর হবে এবং দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চৌদ্দগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণও সন্তোষজনক বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী ইনশা আল্লাহ আমরা বিজয় অর্জন করব।”
তিনি আরও বলেন, দু-একটি স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সেটিকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৭০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে।
নির্বাচনের বর্তমান পরিবেশ অব্যাহত থাকলে তারা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন বলেও আশা করেন জামায়াতের নায়েবে আমির। তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ হলে ফলাফল তাদের অনুকূলে আসবে বলে তার বিশ্বাস।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা ইতিবাচক। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, তাহলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত এবং সেই রায়ের প্রতিই তাদের আস্থা রয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।