ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। তিনি এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী না এলেও ভোটারদের সমর্থন ও আস্থা পেয়ে তিনি গভীর আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডা. খালিদুজ্জামান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “অল্প সময়ের মধ্যে যে ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা আপনারা একজন ‘চিকিৎসক’ খালিদকে এবং আমার সংগঠনকে দিয়েছেন, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার অংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।”
ডা. খালিদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, সারাদেশে ভোটের নীরব দৃশ্যপট লক্ষ্য করা গেছে, এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঢাকা-১৭ এর পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে সামান্য ভোটে পিছিয়ে থাকলেও, এই ব্যবধানই প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন ও বিকল্প চায়, নীতিভিত্তিক রাজনীতি চায়। তিনি বলেন, এই জাগরণই আমাদের শক্তি।
তিনি সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন এবং অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। ডা. খালিদুজ্জামান আশ্বাস দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না এবং ইনশাআল্লাহ তারা এক দীর্ঘ ও চির অমসৃণ পথের যাত্রী। কল্যাণের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, এবং এর ফলাফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।
ডা. খালিদুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, “আজ ফলাফল যাই হোক, মানুষের আস্থা অর্জনের যাত্রা থামবে না। যারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের সমর্থন দেখিয়েছেন, সেটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পুঁজি। আমাদের আরও সংগঠিত হতে হবে, দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং মানুষের পাশে আরও বেশি দাঁড়াতে হবে। মুমিনদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই, মহান আল্লাহ কখনো পরিশ্রম ও নিয়তকে বিফল করেন না।”
তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিজয়ী প্রার্থী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন। ডা. খালিদুজ্জামান বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করতে পারলে তা তাঁর সৌভাগ্য হবে। এছাড়া তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গঠনমূলক সমালোচনা ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে থাকবেন।
তিনি আরও বলেছেন, “আপনাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। যোগ-বিয়োগের খেলায় আমি হেরে গেলেও, আপনারাই বিজয়ী। আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো—ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখুন।”
ডা. খালিদুজ্জামান নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও ভোটারদের সমর্থন পাওয়াকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন। তিনি মনে করেন, এটি শুধু এক নির্বাচনের ফলাফল নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের সময় তার দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের ধৈর্য ও নিষ্ঠা ভবিষ্যতের জন্য দলের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি বললেন, “নির্বাচন শুধু জয়ের বা হারের বিষয় নয়; এটি মানুষের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের একটি প্রক্রিয়া। আমরা এই আস্থা কখনো হারাবো না। আমরা জনগণের পাশে থাকবো।”
ডা. খালিদুজ্জামান ভোটারদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, মানুষ পরিবর্তন চায়, নীতিভিত্তিক রাজনীতি চায়। এই পরিবর্তনের আগ্রহই রাজনৈতিক শক্তি। তিনি সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন, তারা হতাশ হবেন না এবং আরও সক্রিয়ভাবে সমাজের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাক।
তিনি বলেন, “আমরা হয়তো নির্বাচনে জয়ী হইনি, কিন্তু জনগণের সমর্থন আমাদের বিজয়। এটি আমাদের দায়িত্ব বাড়িয়েছে আরও বেশি মানুষকে কাজে লাগাতে। প্রতিটি পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।”
ডা. খালিদুজ্জামান নির্বাচনের ফলাফলে যে শিক্ষা পেয়েছেন তা হলো, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি সমর্থকদের আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তারা আরও দক্ষভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন।
শেষে, ডা. খালিদুজ্জামান বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “বিজয় মানে দায়িত্ব ও প্রত্যাশা পূরণের সূচনা। আমি আশা করি তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মনোযোগ দেবেন। আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখব, যাতে দেশের রাজনীতি স্বচ্ছ ও নীতিভিত্তিক হয়।”