ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

সাতক্ষীরার চার আসনে জামায়াতের জয়


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১:১৯ পিএম

সাতক্ষীরার চারটি আসনে দীর্ঘ ১৭ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ হাসি হাসেছে ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থীরাই।

বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন—

  • সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): মো. ইজ্জত উল্লাহ

  • সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

  • সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): মুহাদ্দিস রবিউল বাসার

  • সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আংশিক): জি এম নজরুল ইসলাম

নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মোট ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ সময় পর সাতক্ষীরার এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ ও গণনা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের মত প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে মাঠে দায়িত্ব পালন করেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়। ভোটাররা কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদভাবে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করেছেন।

জামায়াতের বিজয় উদযাপনের ক্ষেত্রে পার্টির পূর্বঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিছিল বা স্লোগান দেওয়া হয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীরা আল্লাহর দরবারে শোকরানা সিজদা দিয়েছেন। এটি দলটির নৈতিক দায়িত্ব ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী আচরণের প্রতিফলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাতক্ষীরা জেলা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই জেলায় তিনটি আসনে জয়লাভ করেছিল দলটি। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে সুসংগঠিত প্রচারণা ও তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি প্রার্থীদের পেছনে ফেলে চারটি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াত।

নির্বাচনের ফলাফল জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। স্থানীয় জনগণ সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ করেছেন। বিজয়ী প্রার্থীরা জনগণের আস্থা ও সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং জেলার উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করবেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর