ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

সাতক্ষীরার চার আসনে জামায়াতের জয়


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১:১৯ পিএম

সাতক্ষীরার চারটি আসনে দীর্ঘ ১৭ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শেষ হাসি হাসেছে ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থীরাই।

বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন—

  • সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): মো. ইজ্জত উল্লাহ

  • সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

  • সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): মুহাদ্দিস রবিউল বাসার

  • সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আংশিক): জি এম নজরুল ইসলাম

নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই জেলার ৬০৯টি কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মোট ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ সময় পর সাতক্ষীরার এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ ও গণনা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের মত প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে মাঠে দায়িত্ব পালন করেছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব এবং পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়। ভোটাররা কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদভাবে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করেছেন।

জামায়াতের বিজয় উদযাপনের ক্ষেত্রে পার্টির পূর্বঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিছিল বা স্লোগান দেওয়া হয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীরা আল্লাহর দরবারে শোকরানা সিজদা দিয়েছেন। এটি দলটির নৈতিক দায়িত্ব ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী আচরণের প্রতিফলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাতক্ষীরা জেলা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই জেলায় তিনটি আসনে জয়লাভ করেছিল দলটি। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের নির্বাচনে সুসংগঠিত প্রচারণা ও তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি প্রার্থীদের পেছনে ফেলে চারটি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াত।

নির্বাচনের ফলাফল জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। স্থানীয় জনগণ সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ করেছেন। বিজয়ী প্রার্থীরা জনগণের আস্থা ও সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং জেলার উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করবেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর