ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তিনদিনের সরকারি ছুটি কাটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে ধীরে ধীরে নগরীতে ফিরতে শুরু করেছেন। এই সরকারি ছুটি চলাকালীন ঢাকামুখী মহাসড়কগুলো কিছুটা শিথিল থাকলেও, ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর অফিস আদালত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ঘরেফেরা মানুষের ঢাকায় আগমন লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস একে একে যাত্রী বোঝাই হয়ে ঢাকায় ফিরছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ফেরিঘাটে সামান্য বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে, তবু মোটামুটি সব বাস নির্ধারিত সময়ের আশেপাশে ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে।
ঝিনাইদহ থেকে আগত যাত্রী মো. মোস্তাক বলেন, “ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন রাতে বাড়ি ফিরেছিলাম। ভোটও দিয়েছি, ছুটিও কাটালাম। আজ অফিস শুরু, তাই আবার ঢাকা ফিরছি। পথে তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি।”
মাগুরা থেকে আগত আরিফ বলেন, “ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষে আজ ঢাকায় ফিরছি। যাত্রাপথে তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি। এবারের ছুটি যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল।”
বরিশাল থেকে আগত জাকির হোসেন বলেন, “যাওয়ার দিন কিছু ভোগান্তি ছিল, কিন্তু আসতে পেরেছি সহজেই। সার্বিকভাবে এই ছুটি যথেষ্ট সন্তোষজনক ছিল।”
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকামুখী প্রত্যেকটা বাসই যাত্রী বোঝাই হয়ে ফিরছে, তবে তুলনামূলকভাবে ঢাকা ছাড়ার যাত্রীর সংখ্যা কম।
ঢাকা কুষ্টিয়াগামী শুভ বসুন্ধরা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার অর্জুন বলেন, “সকাল থেকেই প্রতিটি বাস যাত্রী ভরে ঢাকায় ফিরছে। সারাদিন এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তবে বাড়িফেরা যাত্রীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।”
সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আলামিন বলেন, “সকাল থেকে আমাদের ছয়টি বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছে। মহাসড়কে তেমন কোনো যানজট নেই। ফলে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।”
ঈগল পরিবহনের কাউন্টার কর্মী ইলিয়াস বলেন, “আজ অনেকেই ঢাকা ফিরছে। তবে আগামীকাল এই সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ কাল থেকে অফিস-আদালত ও অন্যান্য কার্যক্রম পুরোদমে চালু হবে।”
রাজধানীর অন্যান্য টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন পর গ্রামের মাটি ছোঁয়া মানুষের মধ্যে ঢাকা ফিরার সময় বেশ উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি গ্রামের পরিবেশে ছুটির দিনগুলো উপভোগ করেছেন।
পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ছুটি উপলক্ষে ঢাকামুখী বাস চলাচল পূর্বের তুলনায় স্বাভাবিক ছিল। বিশেষত গাবতলী ও সদরঘাটে যাত্রীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত বাস ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ কারণে দীর্ঘ দূরপাল্লার যাত্রায় ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
ঢাকায় ফিরতে যাত্রীদের মধ্যে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশার মানুষ রয়েছেন। তাঁরা জানান, নির্বাচনের পর গ্রামে গিয়ে ভোট দেওয়াও ছিল তাদের দায়িত্ব, এবং এখন অফিস ও ব্যবসা শুরু করতে ঢাকায় ফিরছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, এই ঘরেফেরা ঢাকায় আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত বাস ও সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
ছুটির শেষে নগরে ফিরে আসা মানুষজনের মধ্যে বেশিরভাগই অফিস, আদালত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আজ সকাল থেকেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
যাত্রীদের মতামত অনুযায়ী, এবারের সরকারি ছুটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে ছিল। এখন জীবিকার তাগিদে তারা নগরে ফিরে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোনিবেশ করছেন।
এভাবে ভোটের আনন্দ ও গ্রামে ছুটি কাটানোর অভিজ্ঞতার পর নগরে ফেরার এই ধারা রাজধানীকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও সহজ যাত্রার জন্য পরিবহন কর্তৃপক্ষও সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।