ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থক এবং বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধের মধ্যে ছিল। শনিবার সকাল ১০টার দিকে এই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষের রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে সংঘর্ষের মাত্রা কমে, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার পাশাপাশি তদন্তের কাজ অব্যাহত থাকে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা) সার্কেল মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে জানান, “সংঘর্ষ বাঁধার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করি। অভিযানের অংশ হিসেবে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালীন সময় বেশ কিছু বাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন কিনা, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
উভয়পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ সংঘর্ষকারীদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, আধিপত্য বিস্তার ও ভোট সংক্রান্ত বিবাদ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। সংঘর্ষের আগে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটানো রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ফরিদপুরে এ ধরনের রাজনৈতিক বিরোধভিত্তিক সংঘর্ষ সাম্প্রতিক সময়ে বিরল নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় নেতা-সমর্থকদের মধ্যে সমন্বয় ও শান্তি রক্ষায় কাজ করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, এ ধরনের সংঘর্ষ পুনরায় ঘটলে এলাকার সাধারণ জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে এবং আগাম সতর্কতা হিসেবে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।