আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো বিতর্ক বা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত পথ, এবং আদালতের নির্দেশনা পেলে নির্বাচন কমিশন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সংবিধানের ১৪৮ আর্টিকেল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ না পড়ান, তাহলে চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে যে আইনগত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্টরা করবেন। তবে কবে এবং কখন শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল চিঠিপত্র এখনো কমিশনের কাছে পৌঁছেনি বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যারা এসেছেন, তাদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশন মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। তারা কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তড়িঘড়ি করে ফলাফল প্রকাশের কোনো প্রশ্নই আসে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনেই কাজ করেছে এবং চেষ্টা করেছে কীভাবে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে জনগণের কাছে ফলাফল উপস্থাপন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, গেজেট প্রকাশের সময়কাল যদি আরও আগে নির্ধারণ করা যেত, তাহলে ভালো হতো। তবুও মাঠপর্যায়ে যারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের অবস্থান হলো—আইন ও বিধি মেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।
১১ দলীয় জোটের দাবির প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আইন অনুযায়ী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাইকোর্টে যেতে পারে। আদালত যে নির্দেশনা দেবে, কমিশন তা মেনে চলবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস ছিল একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটিই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিল এবং আল্লাহর সহায়তায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সার্বিকভাবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আইনগত কাঠামোর বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না এবং যেকোনো সিদ্ধান্তই হবে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আলোকে। ফলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন আদালতের নির্দেশনার ওপরই নির্ভর করছে।