বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, আসন্ন শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং সময়সূচিও প্রায় চূড়ান্ত।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, মঙ্গলবার সকাল দশটায় সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তার ধারণা অনুযায়ী, খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই দেবে। তিনি আরও জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শপথ গ্রহণের পরপরই তারা তাদের সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচন করবেন।
উপদেষ্টা বলেন, একই দিন বিকেল চারটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তার জানামতে, এ শপথ রাষ্ট্রপতি পাঠ করাবেন। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও আয়োজনসংক্রান্ত চূড়ান্ত বিষয়গুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হবে। কারা আমন্ত্রিত হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তার জানা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং সেসব দেশের মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, এ বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। তার মতে, বর্তমান সংসদ অন্যান্য সংসদের তুলনায় ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পাওয়া গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংসদ প্রাঙ্গণ নিজেই একটি ঐতিহাসিক স্থান। এখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। জুলাই সনদকে ঘিরে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, সেটিও সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এসব কারণেই স্থানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ প্লাজা শুধু একটি উন্মুক্ত স্থান নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি প্রতীকী পরিসর।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, এ সংসদের পাশেই বেগম খালেদা জিয়া এবং সবার প্রিয় আমাদের ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসব ঘটনা সংসদ প্রাঙ্গণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। ফলে দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের মধ্যে একটি প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ডকুমেন্টেশন প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও সংসদ প্রাঙ্গণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ প্লাজা একটি ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও আবেগঘন স্থানে পরিণত হয়েছে। সেই বিবেচনাতেই এখানে শপথ আয়োজন করা হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন হবে এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শপথ অনুষ্ঠিত হবে।