মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু রাজ্যে বৃহৎ এক অভিযানে ২২২ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। অভিযানটি রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলেছে।
অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় নিবন্ধন (জেপিএন), জনশক্তি বিভাগ (জেটিকে) এবং নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন বোর্ড (সিআইডিবি) থেকে মোট ৬৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।
তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসরি মোহাম্মদ জানান, অভিযানের সময় মোট ৩১৬ জন বিদেশিকে তল্লাশি করে ২২৬ জনকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ২২২ জন, ইন্দোনেশিয়ার তিনজন এবং একজন ভারতীয় নাগরিক।
প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো ধরা পড়েছে, সেগুলো হলো- ব্যক্তিগত নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ অতিরিক্ত থাকা এবং ভিসার অপব্যবহার। এরা ইমিগ্রেশন আইন ১৯৬৩ রেগুলেশনের ৩৯(বি) ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে।
মোহাম্মদ ইউসরি আরও জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন বিভাগের অধীনে ৪১৫ জন অনিবন্ধিত অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভারত ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন।
গ্রেপ্তারদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কুয়ালা বেরংয়ের আজিল ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ও অনুমতি যাচাই করতে তেরেঙ্গানু ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ধরনের অভিযান মালয়েশিয়ায় নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়, যাতে অনিবন্ধিত অভিবাসী ও ভিসা-অমান্যকারীদের শনাক্ত করা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই ধরনের অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও শ্রম বাজারের নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তেরেঙ্গানুতে বিভিন্ন শিল্প ও নির্মাণখাতে নিয়োগপ্রাপ্ত বিদেশিদের ভিসা যাচাই করা হয় এবং যারা নিয়ম মেনে চলছে না তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই অভিযান দেশটিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও বৈধ শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আকাশজমিন / আরআর