নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩ নং ইটালী ইউনিয়নে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে 'কাবিটা' প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন একটি রাস্তায় ইটের পচা খোয়া ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে ঢালাই কাজ চলছে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার ঢালাইয়ের মান খুবই খারাপ। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কুরবান হোসেন এর তত্ত্বাবধানে কাজ চালানো হচ্ছে।
রাস্তাটি ইটালী-বনকুড়ি থেকে বাঁশবাড়িয়া কবরস্থান পর্যন্ত। প্রকল্প অনুযায়ী ৩৫০ ফিট রাস্তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইটের খোয়াগুলো নরম ও নিম্নমানের। সঠিক পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার না হওয়ায় ঢালাইয়ের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানালেও তিনি কোনো তোয়াক্কা করছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলছেন, তদারকির অভাবে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি রাস্তার ক্ষতি করবে।
উপজেলা ও ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছে। তারা চান, সঠিক মান বজায় রেখে রাস্তার বাকি কাজ সম্পন্ন হোক।
অভিযুক্ত ওয়ার্ড সদস্য কুরবান হোসেন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম নেই। কাজ মানসম্পন্ন হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নং ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, অন্যান্য রাস্তার তুলনায় এই রাস্তার মান ভালো। তিনি জানান, ঢালাইয়ের সময় নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বাঁশবাড়িয়া কবরস্থানগামী এই রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ। এটি টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা চান, রাস্তার বাকি অংশও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হোক।
বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “রাস্তার ঢালাইয়ের মান ঠিক না হলে বর্ষার সময় সমস্যা হবে। আমরা চাই সঠিক কাজ হোক।”
গ্রামবাসীরা আশ্বাস পেতে চান যে বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং রাস্তা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী হবে। তারা আশঙ্কা করছেন, না হলে বর্ষা শেষে রাস্তার অধিকাংশ অংশ আবার ভেঙে যাবে।