অনলাইন রিপোর্টার
১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট তৎকালীন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ফজলুর রহমান পটল। ৩২ বছর পর সেই একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তার মেয়ে ফারজানা শারমীন পুতুল। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর বুধবার সচিবালয়ে গিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিজের প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন। পাশাপাশি তাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে প্রথম দিনটি পুতুলের জন্য আবেগঘন ও স্মৃতিবিজড়িত ছিল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৩৩ বছর আগে যে অফিসে তার বাবা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছিলেন, আজ তিনিও সেই একই অফিসে দায়িত্বে নিয়োজিত। অফিসের পাশের বোর্ডে সাবেক মন্ত্রীদের তালিকায় বাবার নাম দেখেই তিনি স্মৃতিবিহ্বল হয়ে পড়েন। পুতুলের অনুভূতি, যেন বাবা সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফারজানা শারমীন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বাবার নামের সঙ্গে পরিচয় দিয়ে তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের জনপ্রিয়তা ফারজানার বিজয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজনীতির মাঠে এই বিজয় সহজ ছিল না। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। সব বাধা পেরিয়ে ফারজানা শেষ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
ফারজানা শারমীন ৪১ বছর বয়সী। তিনি পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ২০১৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে পুতুলকে স্বাগত জানান বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মন্ত্রণালয়ের নীতি, কর্মসূচি ও জনসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা শুরু করেছেন। তার লক্ষ্য, বাবার অসমাপ্ত নীতি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা।
ফারজানা শারমীন এই পদে আসার মাধ্যমে পরিবারগত রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। একই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ায় অভিজ্ঞতা, পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় এবং জনসেবার প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে সমর্থন দিয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তার কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছেন দল ও জনগণ।