অনলাইন রিপোর্টার
পবিত্র রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় এনে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের সব ব্যাংকে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী গ্রাহকরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুপুর আড়াইটার পর গ্রাহক লেনদেন বন্ধ থাকলেও ব্যাংকগুলো বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কাজ, হিসাব-নিকাশ, প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজান মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিও নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোজাদার গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে রমজান মাসে শেয়ারবাজারের লেনদেন সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে। এর মধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য বিরতি থাকবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, রমজান শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং লেনদেন সময়সূচি আবার আগের নিয়মে ফিরে যাবে। অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের পর স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রতিবছর রমজান মাস উপলক্ষে গ্রাহকদের সুবিধা, যানজট পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেন সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারেন, অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রোজার সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন হলে গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থা চালু থাকায় জরুরি আর্থিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ায় গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে লেনদেন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর