ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভ্যাট পরিবর্তনে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৪৬ পিএম

ভ্যাটের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় এলপিজির মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করায় মূল্য সমন্বয় করে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজির দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা থেকে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এলপিজির উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করায় নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভোক্তা পর্যায়ে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিমাসের মতো ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে একবার দাম সমন্বয় করা হয়। তখন বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। জানুয়ারি মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও কর কাঠামোর পরিবর্তনের প্রভাবে নিয়মিতভাবে মূল্য সমন্বয় করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

এদিকে বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহৃত রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা এলপিজির দামও কমানো হয়েছে। মূসকসহ প্রতি কেজির দাম ১০৯ টাকা ২৯ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৮ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে অটোগ্যাসের নতুন দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬১ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য, ডলারের বিনিময় হার এবং কর কাঠামোর পরিবর্তনের ভিত্তিতে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ভোক্তা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এলপিজি দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া যানবাহনে জ্বালানি হিসেবেও অটোগ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। তাই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর কাঠামো পরিবর্তনের ফলে দাম সামান্য কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা হলে ভবিষ্যতে মূল্যেও পরিবর্তন আসতে পারে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মিতভাবে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর   


এ সম্পর্কিত আরো খবর