ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯০ টাকা কেজি তরমুজ, বাজারে ক্রেতা কম


  • আপলোড সময় : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৪৫ পিএম

রমজান ঘনিয়ে এলেও রাজধানীর বাজারে এখনও মৌসুমী তরমুজের সরবরাহ শুরু হয়নি। ফলে বাজারে থাকা অল্প পরিমাণ তরমুজ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে—প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। উচ্চমূল্যের কারণে বাজারে ক্রেতা যেমন কম, তেমনি বিক্রেতার সংখ্যাও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫ থেকে ২০ রমজানের মধ্যে মৌসুমী তরমুজ বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে যেসব তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো মূলত বারোমাসি জাতের এবং সিলেটের তরমুজ। স্বাদে তেমন ভালো না হওয়ায় এবং দাম বেশি থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ কম।

রাজধানীর রামপুরার একটি ফলের দোকানে তরমুজের দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, “দোকানে সাজানো দেখে শখ করে দাম জিজ্ঞেস করলাম। প্রথমে প্রতি কেজি ১০০ টাকা বলল, পরে ১০ টাকা কমিয়ে ৯০ টাকায় দিতে চাইল। কিন্তু একটি ছোট তরমুজ কিনলেও দাম অনেক পড়ে যায়। তাই আর কিনিনি। মৌসুম শুরু হলে তখন কিনব।”

তিনি আরও বলেন, এখনো মৌসুমের তরমুজ বাজারে ওঠেনি। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর স্বাদও তেমন ভালো নয়। সাধারণ মানুষ এত বেশি দাম দিয়ে তরমুজ কিনতে চাইবে না বলেই বিক্রি কম।

গুলশান বাড্ডা লিংক রোডের ফুটপাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ছোট-বড় তরমুজ সারি করে সাজানো থাকলেও ক্রেতাদের ভিড় নেই। শহিদুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, “এখনকার তরমুজ পরিপক্ব নয়। বারোমাসি তরমুজের স্বাদও ভালো না, তার ওপর দাম বেশি। তাই আগ্রহ কম। কিছুদিন পর মৌসুম শুরু হলে তখন কিনব।”

তরমুজ বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে তরমুজ কিনতে হয়েছে। রমজানে চাহিদা বাড়বে ভেবে বেশি করে তরমুজ তুলেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিক্রি একেবারেই কম। তিনি বলেন, “বাজারে এখন সিলেটের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিনছে না। ১৫ থেকে ২০ রমজানের মধ্যে মৌসুমী তরমুজ আসতে শুরু করবে। তখন সরবরাহ বাড়বে, বিক্রিও বাড়বে।”

গুলশান ডিসিসি মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি তরমুজ কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, “৯০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজির একটি তরমুজ কিনেছি। বলতে গেলে বাধ্য হয়ে কিনেছি, কারণ আমার ছোট মেয়ে ইফতারিতে তরমুজের জুস খেতে চেয়েছে। এত দামে অসময়ের তরমুজ কেনার পক্ষে ছিলাম না। মনে হচ্ছে মৌসুম এলে স্বাদও ভালো হবে, দামও কমবে।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বেশি দাম ও মৌসুমী তরমুজের অভাবে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা দুটোই কম। তবে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে সরবরাহ বাড়লে বাজারে প্রাণ ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর