সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সার্কের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ক অভিন্ন আঞ্চলিক মূল্যবোধকে লালন করে আসছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। এসব ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সার্কের প্রক্রিয়াগুলোকে কার্যকর ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিগুলোর প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো একসঙ্গে কাজ করলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ সার্ককে কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে সার্কের কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্তের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন গতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আকাশজমিন / আরআর