ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগে তাড়াশের ভূমি উপসহকারী বদলি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৯ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাড়াশ সদর ইউনিয়নের অভিযুক্ত ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে। তাকে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, খাজনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করে নানা অজুহাতে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তাধীন রাখা হয়। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় প্রশাসন তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে তাকে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশপুর ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে তারা নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। অভিযোগ প্রকাশ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কেউ কেউ আনন্দ প্রকাশ করেন। এমনকি ভুক্তভোগীদের মধ্যে কয়েকজন বদলির খবরে মিষ্টি বিতরণ করেছেন বলেও জানা গেছে।

তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, শুধু বদলি নয়—অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস না পায়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বিষয়ে জানান, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। জনগণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এবং ভবিষ্যতে ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে আর ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর