ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৩৩ পিএম

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কৃষিখাতের বর্তমান অবস্থা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক চাপ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কৃষি খাতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের কাছে সুদসহ পাওনা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এ অর্থের আওতায় থাকা ঋণসমূহই মওকুফের সুবিধা পাবে।

সরকারের ধারণা, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায়মুক্ত হয়ে নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগ দিতে পারবেন। এতে তাদের কর্মস্পৃহা বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ঋণের কিস্তি পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন কৃষকরা উন্নত মানের বীজ, সার কিংবা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকরা পরবর্তী মৌসুমে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়া ঋণ মওকুফের ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে। এতে তারা পুনরায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ নিতে পারবেন এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার মনে করছে, ঋণের চাপ কমলে কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে আরও আগ্রহী হবেন। এতে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে শহরমুখী অভিবাসন কমতে পারে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ সময়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। সেই পদক্ষেপ কৃষকদের আর্থিক কষ্ট লাঘব এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তও কৃষিখাতে একই ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সরকার আশাবাদী।

 আকাশজমিন / আরআর 




এ সম্পর্কিত আরো খবর