জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: রাজধানীর জিরানি ও মান্ডা খালকে আদি রূপে ফিরিয়ে এনে দ্রুত সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় জিরানি ও মান্ডা খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও দখলদারিত্বের কারণে রাজধানীর খালগুলো তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বুক চিরে বয়ে যাওয়া সব কটি খাল উদ্ধার করে পানিপ্রবাহ সচল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) নির্মাণ করা হবে, যাতে নাগরিকরা বিনোদন ও হাঁটার সুযোগ পান। খালের পাড়ে সবুজায়ন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হবে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঈদের পর থেকেই কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ এবং ভূমিমন্ত্রী অচিরেই এসব এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, রাজধানীর খালগুলো সচল হলে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও ফিরবে। নগরবাসীর জন্য এটি হবে বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নিরাপদে সড়ক, নৌ ও রেলপথে বাড়িতে ফিরতে পারে, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অতীতের মতো কোনো অবৈধ টোল বা চাঁদার বোঝা যাত্রীসাধারণের ওপর চাপাতে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর নগর পরিকল্পনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।