ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

৬ মাসের মধ্যে নারীদের জন্য নামছে ইলেকট্রিক বাস


৬ মাসের মধ্যে নারীদের জন্য নামছে ইলেকট্রিক বাস

  • আপলোড সময় : সোমবার ০২ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৭:৩৬ পিএম

ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালু করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ বিশেষায়িত বাস সার্ভিস নিশ্চিত করা। দেশের রাজধানীতে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এই কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নারীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন, রাজধানীর বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থা নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং সুবিধা দেয় না।

শামসুল হক বলেন, রাজধানীর পূর্ব দিকের বাসাবো, গোরান, মাদারটেক এবং পুরানো টাউন এলাকায় বিপুল জনগোষ্ঠী বাস করে। তারা মূলত সাধারণ বাসও পায় না। মেট্রো সাধারণত প্রধান সড়কগুলোর উপর দিয়ে যায়, যা অনেক এলাকাকে ঢেকে দেয় না। এজন্য মেট্রো বাহিরেও অন্যান্য রেলভিত্তিক বিকল্প, মনোরেল, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রয়োজন।

এই প্রকল্পে নারীদের জন্য বিশেষভাবে নিরাপদ এবং তাদের প্রাইভেসি রক্ষা করে এমন বাস চালু করা হবে। এসব বাস নারী চালক দ্বারা পরিচালিত হবে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থাকবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮০ দিনের মধ্যে ইলেকট্রিক বাসভিত্তিক এই নতুন সেবা শুরু হবে।

শামসুল হক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি চাইছেন, মেট্রোর পাশাপাশি অন্যান্য বাস এবং মনোরেল প্রকল্পগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করা হোক। এটি মূলত শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ঘিঞ্জি এলাকায় প্রিফ্যাব্রিকেটেড স্টেশনের মাধ্যমে বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এটি নির্মাণ এবং বাস্তবায়নের সময় এবং খরচ কমাবে। পুরো ঢাকায় রেলভিত্তিক এবং বাসভিত্তিক গণপরিবহন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ফলে ঢাকার উপর চাপ কমে যাবে এবং যাত্রীদের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

শাহমসুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী দ্রুতগতির ট্রেন এবং রেলভিত্তিক বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামোর মাধ্যমে রাজধানীতে যাতায়াত উন্নত করতে আগ্রহী। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে শহরের ঘিঞ্জি এলাকা এবং ব্যস্ত সড়কগুলোর চাপ কমবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ প্রকল্পে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসগুলোর কার্যকারিতা এবং যাত্রী নিরাপত্তা আরও উন্নত করা হবে। এ উদ্যোগ ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের এই উদ্যোগ শুধু নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং পরিবেশবান্ধব এবং প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থার সূচনা করবে। এতে যাত্রীদের সেবা বৃদ্ধি পাবে এবং শহরের যানজট কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হলে, রাজধানীর প্রতিটি অঞ্চলে দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক পরিবহন নিশ্চিত হবে। নারীরা নিরাপদ পরিবহনে যাতায়াত করতে পারবে, যা নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকার আশা করছে, ১৮০ দিনের মধ্যে এই নতুন বাস ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং ধাপে ধাপে পুরো শহরে সম্প্রসারিত হবে। এই পদক্ষেপ দেশের পরিবহন খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর