ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নাজিমউদ্দিন ও কামরুল ইসলামকে দেখতে যান বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার। বুধবার (৪ মার্চ) তিনি কিং হামাদ হাসপাতালে যান এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া সন্তোষজনক বলে মনে করেন এবং দুই প্রবাসীর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন।
রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের সময় বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিফেন্স ফোর্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন। এছাড়া আহতদের পরিবারের প্রতি দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, “আমরা আমাদের প্রবাসীদের পাশে আছি। আহতদের চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে।”
হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করার সময় রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের মানসিক অবস্থার খোঁজখবরও নেন। তিনি বলেন, “সুস্থতা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বস্তিও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিশ্চিত করব তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হোন।”
প্রবাসীরা ইতিমধ্যে স্থানীয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস আহতদের চিকিৎসা, খাদ্য, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য নিয়মিত নজরদারি করছে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও তাদের অগ্রাধিকার।
হামলায় আহত এই দুই প্রবাসী বর্তমানে স্থিতিশীল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ধীরে ধীরে হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে।
এটি বাংলাদেশের প্রবাসীদের প্রতি সরকারের উদ্বেগ এবং দায়িত্বশীলতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেওয়ায় প্রবাসীরা তৃপ্তি প্রকাশ করেছেন।