অনলাইন রিপোর্টার
ঢাকা থেকে ছয় দিনে মোট ২১০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে ঢাকা থেকে এসব দেশে বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এভাবে ছয় দিনের মধ্যে মোট ২১০ ফ্লাইট বাতিল করা হলো।
বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) ১০টি, এমিরেটসের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ২টি এবং ফ্লাইট দুবাইয়ের (দুবাই) ৪টি রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েতের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ পদক্ষেপ মূলত যাত্রী ও বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাজনিত পরিস্থিতির কারণে বিমানের আন্তর্জাতিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের আকাশপথ বন্ধের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্সগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ফ্লাইট এবং বিশেষ বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করছে।
ঢাকা থেকে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের কারণে অনেক যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বিমানসংস্থাগুলো যাত্রীদের সতর্ক করেছে, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ফ্লাইট বুকিং ও পরিবর্তনের জন্য সরাসরি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বিমান চলাচলে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আরও কিছুদিন ধরে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ঢাকা-উড়ান রুটের ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পড়ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা এ পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিমানের বুকিং পরিবর্তন ও যাত্রী সুরক্ষার বিষয়গুলো এয়ারলাইন্সের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।