নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর বড়কালিয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইজারাদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস। অভিযানে ইজারাদারের প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার কাজিরপাগলা এলাকার আজিজুল হক (৫৪)-কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের বৃ-হাচলা মৌজায় ইজারা নিয়ে নির্ধারিত এলাকার বাইরে বড়কালিয়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানার পর প্রশাসন দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, নির্ধারিত ইজারা এলাকার বাইরে নদী থেকে বালু কেটে ট্রাকে পরিবহন করার প্রস্তুতি চলছিল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে এবং জব্দকৃত বালু প্রশাসনের হেফাজতে নেয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য এলাকায় বালু উত্তোলন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে, যা নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ পরিবেশের ক্ষতি করছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং স্থানীয় কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধ করা সম্ভব হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নদী রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।