অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, এফডিএফ-এর উপদেষ্টা আশরাফুল ইসলাম, টিআইবি’র সহ-সভাপতি মনোয়ারা মোরশেদ, জান্নাতুল তাহিয়া রেভি, তাহসিন জেবা ও জান্নাতুল খাতুন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাশউদা হোসেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই অংশগ্রহণ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করছে।
বক্তারা আরও বলেন, পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তবে সমাজে এখনো একটি গোষ্ঠী নারীদের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা। নারীদের পিছিয়ে রাখতে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। এসব বাধা দূর করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ফরিদপুরকে একটি নারীবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি নারীরা যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারেন, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
আকাশজমিন / আরআর