মেলায় স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক প্রয়োজন নয়, এটি টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা শিক্ষা, অর্থনীতি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যত বেশি এগিয়ে যাবে, সমাজ তত বেশি সমৃদ্ধ হবে।
এছাড়া জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমা নাহার এবং উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মৌসুমী মাহবুব।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলেয়া ফেরদৌসী, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রহিমা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং নারীর অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, নারীর উন্নয়ন ছাড়া একটি টেকসই ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বক্তারা আরও বলেন, নারীর শিক্ষা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল করা সম্ভব।
সভায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতে নারীদের আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।