অনলাইন রিপোর্টার
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চলমান রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (৮ মার্চ) ষষ্ঠ দিনের মতো অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ যারা টিকিট সংগ্রহ করবেন তারা আগামী ১৮ মার্চের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ভ্রমণ করতে পারবেন।
ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে লাখো মানুষ ট্রেনে যাত্রা করার পরিকল্পনা করছেন। সেই চাপ সামাল দিতে এবং টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করেছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্ভারের ওপর চাপ কমানো এবং যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে টিকিট বিক্রির সময় অঞ্চলভিত্তিকভাবে ভাগ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার ফলে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়ে ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট এই সময় থেকেই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আজ দুপুর ২টা থেকে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই এই টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির ফলে স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন যাত্রী একটি আইডি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ একবার টিকিট কিনতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে একটি আইডি থেকে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে। এতে করে একজন ব্যক্তি বেশি সংখ্যক টিকিট কিনে অন্যদের সুযোগ নষ্ট করতে পারবেন না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে ঈদযাত্রার জন্য বিক্রি করা এসব অগ্রিম টিকিট কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ড করা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে টিকিট কেনার আগে যাত্রীদের যাত্রার তারিখ ও সময় নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যেসব যাত্রী অনলাইনে কনফার্ম টিকিট পাবেন না, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্রেন ছাড়ার আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে নন-এসি কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার’ বা স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে। এতে জরুরি প্রয়োজনে অনেক যাত্রী অন্তত ট্রেনে উঠতে পারবেন।
এদিকে ঈদের পর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রির সূচিও আগেই ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ মার্চ থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সেদিন যাত্রীরা ২৩ মার্চের ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। এতে করে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের যাত্রাও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানোসহ প্রযুক্তিগত বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি রোধে অনলাইন বিক্রির ওপর বিশেষ নজরদারিও রাখা হচ্ছে।