অনলাইন রিপোর্টার
পুরান ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত স্টার কাবাব রেস্তোরাঁয় ইফতারের সময় ক্রেতাদের সঙ্গে কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খেজুরের দাম নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে রেস্তোরাঁটির কয়েকজন কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে ক্রেতাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক ক্রেতা আহত হয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) ইফতারের সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইফতারের মুহূর্তে রেস্তোরাঁর ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় রূপ নেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কয়েকজন ক্রেতা ইফতার করার জন্য স্টার কাবাব রেস্তোরাঁয় যান। ইফতারের প্লেটে দেওয়া খেজুরের দাম নিয়ে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রথমে বিষয়টি মৌখিক তর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তখন রেস্তোরাঁর কয়েকজন কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে ক্রেতাদের ওপর চড়াও হন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর ভেতরে ও বাইরে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে কয়েকজন কর্মীকে হাতে থাকা চেয়ার ও পানির বোতল দিয়ে ক্রেতাদের ওপর আঘাত করতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কয়েকজন কর্মী মিলে একজন ক্রেতাকে ঘিরে ধরে টানাহেঁচড়া করছেন এবং তাকে মারধর করছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ক্রেতা ও আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কর্মীদের আক্রমণাত্মক আচরণে সেখানে উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের সময় রেস্তোরাঁয় প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ করে এই ধরনের মারধরের ঘটনায় ভেতরে থাকা অনেকেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়ে সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুমন নাথ বলেন, ইফতারের সময় খেজুরের দাম নিয়ে তর্কের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে কয়েকজন ক্রেতা আহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মারধরের শিকার কয়েকজন ক্রেতা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সুমন নাথ বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।