আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি–এর নির্দেশে প্রথমবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আজ সোমবার ভোরের দিকে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এক গুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এই হামলাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে প্রথম আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আইআরইবি–এর বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, “(নতুন) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাঈদ মোজতবা খামেনির নির্দেশে সোমবার ভোরের দিকে দখলদার জায়নবাদী শক্তিকে লক্ষ্য করে এক গুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।” প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিও দেখানো হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়, সাঈদ মোজতবা’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রথম দিনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর ৯ দিনের মাথায় ইরানের প্রভাবশালী সংস্থা দ্য অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
ইরানের ক্ষমতাকাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান একদম শীর্ষে। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অফ কমান্ড। এছাড়া সামরিক, গোয়েন্দা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও পার্লামেন্টসহ সবক্ষেত্রে তার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। এই নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী ধাপের কৌশল নির্ধারণ হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান তার সামরিক পদক্ষেপ আরও সক্রিয়ভাবে চালাতে পারে। তার প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সামরিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে দেশের সীমানার বাইরে নেওয়া অভিযান ও আক্রমণ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে সক্ষম করে।
সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি শুধু ইরান-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক সংঘাত নয়, বরং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য শুধুমাত্র “দখলদার জায়নবাদী শক্তি” এবং গৃহযুদ্ধ বা গালফের দেশগুলোকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি, সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে। বিশেষত মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত প্রভাব এবং তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাবশালী করেছে।
শীর্ষ পর্যায়ের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা ইরানের নতুন নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শনের একটি সূচক। সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে এটি অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বাড়াবে।