সাক্ষাতের শুরুতেই উপদেষ্টা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে চীন এবং চীনের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে চীনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেশ। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে। প্রশাসনিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয় এই সাক্ষাতে।
সাক্ষাতে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত Mr. Yao Wen বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং চীনের কেন্দ্রীয় জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের প্রশাসনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বের যে নতুন ‘স্টাইল’ দেখিয়েছেন, তাতে চীন খুবই আশাবাদী।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীনসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
সাক্ষাতের শেষদিকে দুই দেশের সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই যাত্রায় চীনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।