রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
এর আগে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক মাইনুল উপজেলার সরকার পাড়া এলাকার মো. আলী আকবরের ছেলে। তিনি দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মাইনুল ইসলাম জানান, কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দোকানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা তাকে উপজেলার কুশাবো এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার মুখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তিনি আরও জানান, অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে প্রথমে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তারা তার দোকান থেকে নগদ ৫৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়। অপহরণের সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে তার পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে টাকা পাঠাতে চাপ দিতে থাকে অপহরণকারীরা।
ভুক্তভোগী মাইনুলের স্ত্রী মাকসুদা রহমান জানান, অপহরণকারীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মাইনুলকে মুক্তি দিতে প্রথমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে তারা ৫০ হাজার টাকায় নেমে আসে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে। অন্যথায় তার স্বামীকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, স্বামীর জীবন রক্ষার জন্য তিনি দুই দফায় বিকাশের মাধ্যমে মোট ২৪ হাজার টাকা অপহরণকারীদের কাছে পাঠান। এরপরও তারা বাকি টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকে। তবে এরই মধ্যে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান শুরু করে। পুলিশের তৎপরতার কারণে অপহরণকারীরা শেষ পর্যন্ত মাইনুলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলে রাব্বি জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তারা ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং শুরু করেন। পরে কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ি ও ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির দুটি টিমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের অভিযান ও নজরদারি টের পেয়ে অপহরণকারীরা মাইনুলকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, সোমবার রাতে মাইনুল ইসলাম নামে এক সাংবাদিককে অপহরণ করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে। পুলিশের কড়া নজরদারির মুখে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
আকাশজমিন / আরআর