ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রূপগঞ্জে মুক্তিপণের জন্য সাংবাদিককে অপহরণ, পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৫:১৪ পিএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে মাইনুল (৪০) নামে এক সাংবাদিককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। সোমবার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাওঘাট ইউনিয়নের কুশাবো এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এর আগে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া সাংবাদিক মাইনুল উপজেলার সরকার পাড়া এলাকার মো. আলী আকবরের ছেলে। তিনি দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী মাইনুল ইসলাম জানান, কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দোকানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা তাকে উপজেলার কুশাবো এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার মুখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে প্রথমে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তারা তার দোকান থেকে নগদ ৫৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়। অপহরণের সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে তার পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে টাকা পাঠাতে চাপ দিতে থাকে অপহরণকারীরা।

ভুক্তভোগী মাইনুলের স্ত্রী মাকসুদা রহমান জানান, অপহরণকারীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মাইনুলকে মুক্তি দিতে প্রথমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে তারা ৫০ হাজার টাকায় নেমে আসে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে। অন্যথায় তার স্বামীকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, স্বামীর জীবন রক্ষার জন্য তিনি দুই দফায় বিকাশের মাধ্যমে মোট ২৪ হাজার টাকা অপহরণকারীদের কাছে পাঠান। এরপরও তারা বাকি টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকে। তবে এরই মধ্যে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান শুরু করে। পুলিশের তৎপরতার কারণে অপহরণকারীরা শেষ পর্যন্ত মাইনুলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

রূপগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলে রাব্বি জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই তারা ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং শুরু করেন। পরে কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ি ও ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির দুটি টিমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের অভিযান ও নজরদারি টের পেয়ে অপহরণকারীরা মাইনুলকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, সোমবার রাতে মাইনুল ইসলাম নামে এক সাংবাদিককে অপহরণ করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে। পুলিশের কড়া নজরদারির মুখে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

আকাশজমিন /  আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর