অনলাইন রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরু হবে। এই অধিবেশনে নির্বাচিত হবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, যাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি মু. সাহাবুদ্দিন। এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করবেন। এছাড়া প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন, যা নতুন সংসদের কার্যক্রমের সূচনা হবে।
এর আগে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রথম অধিবেশনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের বিষয়গুলো।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপি সংসদ সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, দল আগামীকাল সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে শুরু করার জন্য প্রস্তুত। স্পিকার পদে এবং ডেপুটি স্পিকার পদে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বসানোর লক্ষ্য দলটির। এর পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনে সংসদ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিয়মিত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বুধবারের বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন প্রক্রিয়া, জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন, প্রথম অধিবেশনের সময়কাল নির্ধারণ এবং সংসদের নিয়মনীতি ও কার্যপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন সংসদে স্পিকার পদে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রার্থী হিসেবে কিছু নাম আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অধিবেশনের দিন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ গ্রহণ নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এটি দেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ।”
তিনি আরও জানান, প্রথম অধিবেশনে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম, বৈঠকের সূচনা, সাংসদদের উপস্থিতি ও প্রাথমিক আলোচনার সূচনা নিশ্চিত করা হবে। এটি নতুন সরকারের জন্য একটি স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল শুরুর প্রতীক।
সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদীয় কার্যক্রম কীভাবে সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে এবং দেশের জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এছাড়া নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে দলীয় সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কার্যক্রমের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আগামীকাল প্রথম অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সূচনা হবে।