গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কুমার মৃদুল দাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া, মোদ্দাছের হোসেন ঠাকুর, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জসিমউদ্দিন এবং প্রেসক্লাব কোটালীপাড়ার সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ লাল দাস।
সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি বিষয়ক আলোচনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক সভায় বলেন, "স্বাধীনতা দিবস এবং গণহত্যা দিবস উদযাপনের সময় ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে মিলেমিশে অনুষ্ঠানগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে হবে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কুমার মৃদুল দাস স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের ত্রুটি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।"
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, "বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।"
বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, "২৬ মার্চ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির দিনে নতুন প্রজন্মকে দেশের স্বাধীনতার মহত্ত্ব বোঝানো প্রয়োজন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, আলোচনা ও স্মরণসভা আয়োজনের মাধ্যমে তা সম্ভব।"
সভায় উল্লেখ করা হয় যে, উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতারা এবং সামাজিক সংগঠনগুলো একত্রিতভাবে অনুষ্ঠানের প্রতিটি দিক মনিটর করবেন। এতে অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য সকল প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর