শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) নিশ্চিত করেছেন যে আগামী বছর থেকে স্কুলে ভর্তি লটারি চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সহজ পদ্ধতিতে। লটারি কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয় এবং দীর্ঘ গবেষণা ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, “আগামী বছর থেকে স্কুলে ভর্তি লটারি থাকবে না। খুবই সাধারণ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। কোনো প্রতিযোগিতা বাড়ানো হবে না। যারা ভর্তিতে কোচিং বাণিজ্য করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। সরকার ইনহাউজ কোচিং-এর ব্যবস্থা করবে।”
তিনি আরও বলেন, লটারি প্রথা শিক্ষার্থীদের জন্য জুয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া। এটি শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখে না। তাই স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা এখন থেকে হবে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভর্তির পদ্ধতি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যদের (ভিসি) নামও ঘোষণা করা হয়।
এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর ভর্তির পথ তৈরি করবে। শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে। এতে কোচিং ব্যবসা ও অবৈধ প্রভাব বন্ধ হবে এবং সকল শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সঙ্গে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি হোক। কোনো শিক্ষার্থীর সুযোগে কোনো ধরনের অনিয়ম থাকা যাবে না।”
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লটারি প্রথা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। অনেকে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে ভর্তি হয়েছেন, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। পরীক্ষা-ভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে।
আকাশজমিন / আরআর