পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ বিরতিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পাচ্ছেন।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছর দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী ২০ অথবা ২১ মার্চ। ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার অতিরিক্ত ছুটির ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন।
স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ১৭ মার্চ ছিল পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি। অন্যদিকে ঈদুল ফিতরের নির্ধারিত ছুটি রয়েছে ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। মাঝখানে ১৮ মার্চ বুধবার অফিস খোলা থাকার কথা ছিল। তবে ঈদের সময় যাতায়াতে মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার ওই দিনও ছুটি ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৮ মার্চ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশ জারি করে ১৮ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। এর ফলে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি নিশ্চিত হয়।
সরকারের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। এর আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি রাখা হয়েছে। ফলে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি নিশ্চিত ছিল।
পরে ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার মাধ্যমে এই ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটি দিন। এর সঙ্গে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে মোট সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হয়েছে।
ঈদের ছুটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঈদের সময় সড়ক ও রেলপথে যানজট কমাতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবহন কর্তৃপক্ষও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। টানা ছুটি শেষে আগামী ২৪ মার্চ থেকে এসব প্রতিষ্ঠান আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। তাই ঈদকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।