ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

মন্ত্রীর স্বস্তির আশ্বাস, বাস্তবে বাস-ট্রেনে চরম ভোগান্তি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১:৫১ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সড়ক ও রেলপথে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট এবং ট্রেনে টিকিট থাকা সত্ত্বেও আসন না পাওয়ার মতো নানা সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা।

ঈদের আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল সরকারিভাবে শেষ কর্মদিবস। অফিস শেষে বিকেল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। রাজধানী ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য যাত্রীরা বাস ও ট্রেনে ভিড় করেন। তবে পরিবহন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং তীব্র যানজটের কারণে অনেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রাজধানী থেকে বের হওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক-এর বিভিন্ন অংশে সন্ধ্যার পর থেকেই যানজট দেখা যায়। বিশেষ করে চন্দ্রা, খাড়াজোড়া এবং কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

চন্দ্রা বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি পরিবহন কাউন্টারে টিকিট বিক্রি বন্ধ। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে দরদাম করে বাসে উঠছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে অনেক পরিবহন মালিক বাসভাড়া কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট এবং বেশি দামে তেল কিনতে হওয়ায় তাদের ব্যয় বেড়েছে। তাই আগের তুলনায় কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

রাজধানীর কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাস স্ট্যান্ডের প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক যাত্রী বাসের অপেক্ষায় ছাউনির বাইরে ফুটপাত, চায়ের দোকান ও আশপাশের খোলা জায়গায় লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এদিকে আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকাতেও ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখা যায়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক-এ তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বাসের সংকটের সুযোগে অনেক পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহাসড়কের এয়ারপোর্ট, আজমপুর, হাউজ বিল্ডিং এবং আব্দুল্লাহপুর এলাকায় রাস্তার পাশে শত শত যাত্রীকে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।

অনেক যাত্রীর অভিযোগ, কিছু পরিবহন কোম্পানি নির্ধারিত রুটে চলাচল না করে একাধিক ট্রিপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে নির্দিষ্ট রুটে বাসের সংকট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

যাত্রীরা জানান, সাধারণ সময়ে যেখানে ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার বাসভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে থাকে, সেখানে ঈদ উপলক্ষে তা বেড়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী ট্রাকসহ বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করছেন। এসব ট্রাকেও জনপ্রতি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথেও যাত্রীদের দুর্ভোগ কম নয়। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, টিকিট কেটে ট্রেনে উঠলেও নিজ নিজ আসনে বসতে পারছেন না।

রাজধানীর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। রাত ৮টার দিকে ট্রেনটি লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রামবুড়িমারী অভিমুখে যাত্রা করে।

ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হলেও যাত্রীদের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অনেকেই নিজেদের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি। অনেক যাত্রীকে ট্রেনের দরজায় ঝুলে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ দেখা গেছে। ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে হেল্পলাইন’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে একজন যাত্রী ট্রেনের ভেতরে গাদাগাদি অবস্থার ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের আসনে পৌঁছাতেও পারছে না।

আরেকটি পোস্টে দেখা যায়, চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কোচের ছাদেও যাত্রী বসে আছেন। এতে ট্রেনযাত্রার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির আগেই সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বাস মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিচ্ছেন— এমন কোনো নজির তিনি পাননি।

মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক পরিবহন যাত্রী আকৃষ্ট করতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিত। এখন তারা নির্ধারিত ভাড়ার কাছাকাছি ভাড়া নিচ্ছেন বলেই মানুষের কাছে বেশি মনে হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার কারণে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। সেই চাপ মোকাবিলার জন্য পরিবহন মালিকদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

এর আগে গত ১৩ মার্চ রাজধানীর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করে রেলপথমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে। মিটারগেজ লাইনে প্রায় ১২৪টি কোচ এবং ব্রডগেজ লাইনে আরও প্রায় ১৪টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ হাজার যাত্রীকে ট্রেন সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রী যেকোনো মূল্যে ট্রেনে উঠতে চান, যার ফলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

তবে বাস্তবে বাস ও ট্রেন দুই ক্ষেত্রেই যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট এবং আসন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীই স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর