ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আদালতের রায়ে আফ্রিকা কাপের শিরোপা মরকোর হাতে


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১২:৫৪ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক

আফ্রিকান ফুটবলে নাটকীয় মোড় নিলো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনাল। গত জানুয়ারিতে রাবাতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ফাইনালে সেনেগাল অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে মরকোর বিরুদ্ধে জয়ী হয়। তবে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)-এর আপিল বোর্ড সেই ফল বাতিল করে সেনেগালকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি মরকোর পক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আফ্রিকান ফুটবলের ভক্ত ও খেলোয়াড়রা বিস্মিত হয়েছেন।

১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মরকোর পক্ষে একটি পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা প্রায় ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে অবস্থান করেন। দর্শকও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলে মরকোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের নেওয়া পেনাল্টি রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। অতিরিক্ত সময়ে সেনেগাল একমাত্র গোল করে ম্যাচ জিতে নিলে প্রথমে শিরোপা তাদের হাতে আসে।

এর আগে, সেনেগালের একটি গোল বাতিল নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আব্দুলায়ে সেকের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়েছে, যদিও হাকিমির সঙ্গে সংযোগ ছিল খুবই সামান্য। প্রাথমিকভাবে সিএএফ সেনেগালকে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করে এবং উভয় দলের কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করে। তবে তখনও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত ছিল।

আপিলে গিয়ে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেওয়া হয়। সিএএফ জানিয়েছে, তাদের নিয়মের ৮২ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনো দল ম্যাচ চলাকালে মাঠ ত্যাগ করলে বা খেলতে অস্বীকৃতি জানালে সেটি পরাজিত বলে গণ্য হবে। এই কারণে আপিল বোর্ড সেনেগালকে অযোগ্য ঘোষণা করে মরকোর পক্ষে জয় ঘোষণা করেছে।

রায়ের পর সেনেগালের খেলোয়াড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুসা নিয়াখাতে সামাজিক মাধ্যমে ট্রফি হাতে ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘নিয়ে যাও তো দেখি, পাগল নাকি!’ অন্যদিকে এল হাজি মালিক দিওফও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তবে রয়্যাল মরকান ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ) জানিয়েছে, তারা কেবল প্রতিযোগিতার নিয়ম প্রয়োগের জন্য অনুরোধ করেছিল। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে খাটো করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেনেগাল এখন কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করতে পারে। তবে সেখানে রায় পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এই আপিলে সফল হলে সেনেগাল আবার শিরোপা পেতে পারে।

১৯৭৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স জিতল মরকো। একই সঙ্গে জিতেও শিরোপা হারানোর বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো সেনেগাল। এই ঘটনাটি আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে বিতর্কিত ও স্মরণীয় অধ্যায়ের অংশ হয়ে থাকবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর