পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রস্তুত করা হয়েছে ঈদের প্রধান জামাতের আয়োজন। প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ। আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এখানে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের প্রধান জামাত।
ঐতিহাসিক এই মাঠটি ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ‘জাতীয় ঈদগাহ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে সিটি কর্পোরেশন। এবারও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর তত্ত্বাবধানে টানা ২৮ দিনের কর্মযজ্ঞে মাঠটিকে নামাজের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পি আর এন্টারপ্রাইজ’ কাজটি সম্পন্ন করেছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শতাধিক কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে বিশাল এই প্যান্ডেল নির্মাণ করেছেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ এবং কাঠামো শক্ত রাখতে ১৫ টনেরও বেশি রশি। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলায় প্রায় ১ হাজার ৯০০টি ত্রিপল টানানো হয়েছে এবং আলোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৯০০টি টিউবলাইট।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এবারই প্রথম জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আব্দুল মালেক। এছাড়া প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেবেন।
ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী রয়েছেন। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর পৃথক নামাজের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্যান্ডেলের ভেতরে নামাজের কাতারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো মাঠে ১২১টি কাতার রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫টি বড় এবং ৫৬টি ছোট আকারের। ঈদগাহ পূর্ণ হয়ে গেলে আশপাশের খোলা স্থান ও সংলগ্ন সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে জামাতে অংশ নিতে পারবেন।
মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০০টি সিলিং ফ্যান এবং ২০০টি স্ট্যান্ড ফ্যান রয়েছে। ভিআইপি কাতারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৪০ জনের জন্য ওজুর পৃথক ব্যবস্থা এবং পুরো এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদগাহে প্রবেশের জন্য চারটি ফটক রাখা হয়েছে এবং বের হওয়ার জন্য সাতটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য দুটি মেডিকেল দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্পভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এ সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।